আমেরিকার বড় প্রতিরক্ষা সংস্থা লকহিড মার্টিন ঘোষণা করেছে যে তারা 2028 সালের মধ্যে এমন একটি অস্ত্রের বাস্তব পরীক্ষা চালাবে যা মহাকাশ থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে পারে। এটি ‘গোল্ডেন ডোম প্রজেক্ট’-এর একটি অংশ বলে বলা হচ্ছে, যা আমেরিকাকে এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক ঢাল প্রদান করবে যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে না।
কোম্পানির সিইও জিম ট্যাকলেট বলেছেন যে এটি একটি ল্যাব পরীক্ষা নয়, বাস্তব মহাকাশে পরিচালিত একটি পরীক্ষা হবে। তিনি বলেছিলেন যে আমরা এমন একটি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করছি যা কক্ষপথে উড়বে, মিসাইল ট্র্যাক করবে এবং ধ্বংস করবে। অর্থাৎ যুদ্ধের মতো বাস্তব পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে।
এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কি?
আমেরিকা চায়, কোনো শত্রু দেশ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে তা উৎক্ষেপণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আকাশে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এর ফলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই আমেরিকার মাটিতে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে না। সেজন্য মহাকাশ ভিত্তিক এই নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।
গোল্ডেন ডোম সিস্টেম কিভাবে কাজ করবে?
‘দ্য ওয়ার জোন’-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, লকহিড মার্টিন ভার্জিনিয়ায় তাদের সেন্টার ফর ইনোভেশনে এই সিস্টেমের প্রাথমিক প্রযুক্তি প্রস্তুত করেছে। এটি এমন একটি নেটওয়ার্ক হবে যা তিনটি স্থানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করে কাজ করবে: স্থল, সমুদ্র এবং মহাকাশ। অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের অংশীদাররাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যাতে আমেরিকার প্রযুক্তি বিশ্বে শীর্ষস্থানে থাকে।
উড্ডয়নের প্রথম পর্যায়েই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার প্রস্তুতি
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো ব্যালিস্টিক বা হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রথম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গুলি করে নামানো যেতে পারে, অর্থাৎ ‘বুস্ট ফেজ’, কারণ তখনই এটি সবচেয়ে দুর্বল। এই কারণে, গোল্ডেন ডোম সিস্টেমের ফোকাস এই পর্যায়ে রয়েছে যাতে শত্রু আক্রমণ আমেরিকান সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়।
এই সিস্টেমটি কোর্সের মাঝামাঝি সময়েও কাজ করবে
এই সিস্টেমে ক্ষেপণাস্ত্রটি শুধুমাত্র উৎক্ষেপণের সময়ই নয়, মাঝামাঝি পর্যায়ে, অর্থাৎ যখন এটি মহাকাশে উড়ছে তখনও ট্র্যাক এবং ধ্বংস করার ক্ষমতা থাকবে। এর ফলে ICBM (আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল) এর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও আমেরিকায় পৌঁছাতে পারবে না।
কেন এই মিশন বিশেষ
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকহিড মার্টিনের এই প্রকল্প সফল হলে S-400 বা আয়রন ডোমের মতো বিশ্বের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পিছিয়ে যাবে। আমেরিকা এমন একটি মহাকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি করবে যা জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে যে কোনও আক্রমণ থামাতে সক্ষম হবে।
এখন মহাকাশ নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে
যদিও পেন্টাগন অর্থাৎ মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্প নিয়ে বেশি কিছু বলছে না, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আমেরিকার মহাকাশ বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে। এটা এখন স্পষ্ট যে ভবিষ্যৎ যুদ্ধ শুধু পৃথিবীতেই নয়, মহাকাশেও হবে।
এটিও পড়ুন-





